যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিনকার্ড) স্বপ্ন দেখা প্রবাসীদের জন্য কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। দেশটির সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) স্থায়ী রেসিডেন্সি বা গ্রিনকার্ডের আবেদনের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ (জনগণের ওপর আর্থিক বোঝা) আইনের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তাঁর গ্রিনকার্ড আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান হতে পারে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনের সময়ে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পারিবারিক কাঠামো, নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য এবং সম্পদ বিবেচনা করবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এর আগে শুধু সরাসরি নগদ অর্থ বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সহায়তাকে ‘পাবলিক চার্জ’ ধরা হতো। কিন্তু নতুন নির্দেশনায় আবাসন সহায়তা, ফুড স্ট্যাম্প (খাদ্য সাহায্য) কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য পাওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তার মতো সুবিধা গ্রহণ করলেও তা আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দার হওয়ার যোগ্যতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিধিনিষেধের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন স্বল্প আয়ের ও পরিবারভিত্তিক গ্রিনকার্ড প্রত্যাশীরা। তবে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে (VAWA) আবেদনকারী বা সুনির্দিষ্ট কিছু আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারীকে শুধুমাত্র পাবলিক চার্জ আইনের কারণে অযোগ্য মনে করা হলেও তাঁকে সম্পূর্ণ না ফিরিয়ে বিশেষ ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এই বন্ড জমা দিয়ে গ্রিনকার্ড নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি নির্ভর করবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার একক বিচক্ষণতার ওপর।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্র (EAD) সংক্রান্ত আই-৭৬৫ এবং আই-৫৩৯ ফর্মেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পুরোনো ফর্মে জমা পড়া আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের যেকোনো সরকারি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং ফর্ম পূরণের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীরা।




